প্রথম পরিচ্ছেদ
লণ্ডনে স্বামী বিবেকানন্দ — ১৮৯৫ খ্রীস্টাব্দে

মনে করিলে আশ্চর্য বোধ হয়, কিন্তু নিশ্চিতই আমার সৌভাগ্য বলিতে হইবে যে, আমার গুরুদেব শ্রীমৎ স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতাবলী তাহার ১৮৯৫ ও ১৮৯৬ খ্রীস্টাব্দে ইংলণ্ড-আগমনকালে — উভয়বারই আমি শ্রবণ করিয়াছিলাম, তথাপি ১৮৯৮ খ্রীস্টাব্দের প্রথম দিকে ভারতে আসিবার পূর্বে তাহার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অতি অল্পই জানিতাম; এমনকি কিছুই জানিতাম না বলিলেও চলে। সৌভাগ্য, কেন না এই পূর্ব পরিচয় না থাকার ফলেই আমি মানসনেত্রে স্বামীজীর ব্যক্তিত্বেব যে স্বতঃ প্রকাশ ঘটিত তাহার প্রতি পদে, ভারতীয় অরণ্য, নগর ও রাজপরূপ যথার্থ পরিবেশের মধ্যেই তাহাকে দেখিতে পাই — প্রাচ্য আচার্যকে প্রাচ্য জগতের আবেষ্টনীর মধ্যেই দেখিয়া থাকি।  এমনকি সুদূর লণ্ডনেও যখন আমি তাহাকে প্রথম দেখি, এখন ঐ ঘটনা স্মরণ করিয়া আমার চিত্ত যেরূপ আলোড়িত হয়, সূর্যালোকমণ্ডিত স্বদেশের বহু স্মৃতিপরম্পরা তাহার চিত্তও সেইরূপ আলোড়িত করিয়া থাকিবে। সময়টি ছিল নভেম্বর মাসের এক রবিবারের শীতল অপরাহু।  স্থান ওয়েস্ট-এণ্ডের এক ড্রইংরুম। অর্ধবৃত্তাকারে উপবিষ্ট শ্রোতৃমণ্ডলীর দিকে মুখ করিয়া তিনি বসিয়াছিলেন।  তাঁহার পশ্চাতে ছিল কক্ষের অগ্নি রাখিবার স্থানে প্রজ্বলিত অগ্নি।  আর যখন তিনি প্রশ্নের পর প্রশ্নের উওর দিতেছিলেন, এবং মধ্যে মধ্যে উত্তরটি উদাহরণ দ্বারা ব্যাখ্যা করিতে গিয়া কোন সংস্কৃত গ্রন্থ হইতে সুর করিয়া আবৃত্তি করিতেছিলেন, তখন গোধূলি ও অন্ধকারের মিলন-সদ্ভুত সেই দৃশ্যটি নিশ্চয়ই ভারতের কোন উদ্যানে, অথবা সূর্যাস্তকালে কূপের নিকটে, কিংবা গ্রামের উপকণ্ঠে বৃক্ষতলে উপবিষ্ট সাধু এবং তাহার চারিদিকে সমবেত শ্রোতৃবৃন্দ — এইরূপ এক দৃশ্যেরই কৌতুককর রূপান্তর বলিয়া তাঁহার বোধ হইয়া থাকিবে। ইংলণ্ডে আচার্য হিসাবে স্বামীজীকে আমি আর কখনও এমন সাদাসিধা ভাবে দেখি নাই।  পরবর্তী কালে তিনি সর্বদাই বক্তৃতা দিতেন; অথবা প্রশ্নাদির উত্তর দিতেন। প্রশ্নগুলি সমাগত বহু সংখ্যক শ্রোতৃবৃন্দের মধ্যে কেহ কেহ নিয়মমাফিক উত্থাপন করিতেন।  কেবল এই প্রথমবারেই আমরা মাত্র পনর-ষোল জন অভ্যাগত ছিলাম।  আমাদের মধ্যে অনেকেই আবার ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।  স্বামীজী আমাদের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলেন — তাহার পরিধানে ছিল গৈরিক পরিচ্ছদ ও কোমরবন্ধ — যেন তিনি আমাদের নিকট কোন্ এক দূর দেশের বার্তা বহন করিয়া আনিয়াছেন।  মধ্যে মধ্যে তিনি এক অদ্ভুত অভ্যাস মত ‘শিব! শিব!’ বলিয়া উঠিতেছিলেন। তাহার প্রশান্ত আননে বিরাজ করিতেছিল কোমল ও মহত্ত্বব্যঞ্জক ভাবের সংমিশ্রণ — যাহা সাধারণতঃ ধ্যানপরায়ণ ব্যক্তিগণের মুখমণ্ডলে দেখা যায়।  সম্ভবতঃ ঐ ভাবই র্যাফেল তাহার দিব্য শিশুর (Sistine Child-এর) ললাটে অঙ্কিত করিয়া দেখাইয়া গিয়াছেন। 

সে অপরাহ্নের পর আজ দশ বৎসর কাটিয়া গিয়াছে, এবং সেদিনকার কথাবার্তার একটু আধটু মাত্র এখন মনে পড়িতেছে।  কিন্তু সেই বিস্ময়কর প্রাচ্য সু সংযোগে যে-সকল সংস্কৃত শ্লোক তিনি আবৃত্তি করিয়া শুনাইয়াছিলেন, তাহা কখনও ভুলিবার নহে; ঐ সুরের ঝঙ্কার আমাদের গীর্জায় প্রচলিত গ্রেগরি-প্রবর্তিত সুরের কথা এত মনে করাইয়া দেয়, অথচ উহা হইতে কত ভিন্ন। 

তাহার নিজের সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন করিলে তাহার উত্তর দিতে তিনি বেশ আগ্রহী ছিলেন, এবং একটি প্রশ্নের উত্তরে বুঝাইয়া দিলেন, তাঁহার পাশ্চাত্যে আগমনের কারণ হইল — তিনি বিশ্বাস করেন, বিভিন্ন জাতির মধ্যে, বর্তমানে যেরূপ পণ্যদ্রব্যের বিনিময় চলিতেছে, ঐরূপ পরস্পরের মধ্যে আদর্শের আদান-প্রদানেরও সময় আসিয়াছে।  এই সময় হইতে বরাবর কথাবার্তা বেশ সহজভাবে চলিয়াছিল।  তিনি প্রাচ্যের “সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম” রূপ অদ্বৈতবাদের ব্যাখ্যা করিতেছিলেন।  সেই প্রসঙ্গে তিনি বিবিধ ইন্দ্রিয়জ্ঞান এক অদ্বিতীয় সত্তার বিভিন্ন বিকাশ বলিয়া বর্ণনা করিলেন, এবং গীতা হইতে শ্লোক উদ্ধৃত করিয়া তাহার ইংরেজী অনুবাদ করিয়া দিলেন — “ময়ি মিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব” – সূত্রে গ্রথিত মণিসমূহের ন্যায় এই সকল আমাতে অবস্থিত। 

তিনি আমাদের বলিলেন, খ্রীস্টধর্মের ন্যায় হিন্দুধর্মেও প্রেমই ধর্মভাবের চরম উৎকর্ষ বলিয়া স্বীকৃত হয়। 

তিনি আরও বলিলেন, হিন্দুগণ মনে করেন, শরীর ও মন এক তৃতীয় পদার্থ আত্মার দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত।  এই বিষয়টি আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে, যাহার ফলে পরবর্তী শীতকালে আমি সম্পূর্ণ নূতন দৃষ্টিভঙ্গি লইয়া জগৎকে দেখিতে আরম্ভ করি। 

তিনি বৌদ্ধধর্ম ও হিন্দুধর্মের পার্থক্য বর্ণনা করিতেছিলেন এবং আমার মনে আছে, তিনি শান্তভাবে এই কয়টি কথা বলেন, “বৌদ্ধগণ ইন্দ্রিয়জ জ্ঞানকেই সত্য বলে মেনে নিয়েছিলেন। ” সুতরাং এই হিসাবে বৌদ্ধধর্ম ছিল আধুনিক অজ্ঞেয়বাদের (Agnosticism-এর) সম্পূর্ণ বিপরীত মতাবলম্বী।  বরং ইন্দ্রিয়জ জ্ঞান মনেরই খেয়াল মাত্র, অতএব অনুমানও তাহাই, এইরূপ সন্দেহ অজ্ঞেয়বাদের মূলমন্ত্র বলিয়া অজ্ঞেয়বাদ অনেকটা হিন্দুধর্মেরই সদৃশ। 

আমার মনে আছে, তিনি বিশ্বাস (faith) শব্দটিতে আপত্তি প্রকাশ করেন এবং উহার পরিবর্তে প্রত্যক্ষানুভূতি (realisation) শব্দটি ব্যবহার করিতে বিশেষ আগ্রহান্বিত হন।  সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা করিতে গিয়া তিনি ভারতের একটি প্রবাদ উদ্ধৃত করেন, “কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মানো ভাল, কিন্তু উহার গণ্ডির মধ্যেই মৃত্যু অতি ভয়ঙ্কর। ”

আমার মনে হয়, সম্ভবতঃ এই প্রসঙ্গেই পুনর্জন্মবাদও আলোচিত হইয়াছিল।  বোধহয় তিনি কর্ম, ভক্তি ও জ্ঞান — এই তিনটিকে আত্মজ্ঞান লাভেরতিনটি উপায় বলিয়া উল্লেখ করেন।  আমার বেশ মনে আছে, তিনি কিছুক্ষণ ধরিয়া মানবের অনন্ত শক্তি সম্বন্ধে বলেন এবং ঘোষণা করেন, সকল ধর্মের একমাত্র শিক্ষা এই — ”ত্যাগ কর, ত্যাগ কর। ”

তিনি এই ভাবের দু-একটি কথাও বলিয়াছিলেন যে, ভারতবর্ষে উচ্চতম ধর্মের সহিত পুরোহিত ও মন্দিরাদির কোন সম্পর্ক নাই, এবং তাহার দেশের সর্বোচ্চ ধার্মিক ব্যক্তির নিকট স্বৰ্গকামনা ‘কতকটা নিম্নস্তরের’ বলিয়াই বিবেচিত হয়। 

আত্মার মুক্ত স্বভাবরূপ আদর্শ তিনি নিশ্চয় উল্লেখ করিয়া থাকিবেন।  মানব-সেবাই প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনের উদ্দেশ্য বলিয়া পাশ্চাত্যে আমাদের যে ধারণা, তাহার সহিত তাহার মতের আপাতবিরোধও ঘটিয়াছিল।  কারণ আমার স্পষ্ট মনে আছে যে, সেদিন অপরাহ্নে তিনি সর্বপ্রথম সোসাইটি (society) শব্দটি এমন এক অর্থে ব্যবহার করিয়াছিলেন, যাহা আমি কখনও সঠিকরূপে বুঝিতে পারিয়াছি বলিয়া মনে করি না। যতদূর মনে পড়ে, তিনি পূর্বোক্ত আদর্শটির উল্লেখ করিয়াই আমাদের দিক হইতে যে সকল প্রতিবাদ উঠিবার সম্ভাবনা তাহা অনুমান করিয়া বলেন, “আপনারা বলবেন এতে সমাজের কোন উপকার হয় না। কিন্তু এই আপত্তি স্বীকার করে নেবার পূর্বে আপনাদের প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে, সমাজের স্থায়িত্ব জিনিসটা স্বয়ং একটি উদ্দেশ্যস্বরূপ। ”

ঐ সময়ে আমি মনে করিয়াছিলাম, ‘সোসাইটি’ (সমাজ) অর্থে তিনি সমগ্র মানবজাতির উল্লেখ করিতেছেন, এবং বিচার করিয়া দেখিলে শেষ পর্যন্ত জগৎনশ্বর, অতএব জগতের উপকারের জন্য যাহা কিছু করা যায় তাহাও নশ্বর—এইরূপ মতবাদ প্রচার করিতেছেন। কিন্তু এই অর্থই কি তাহার অভিপ্রেত ছিল? তাহা হইলে মানবসেবাই যে চিবকাল তাহার জীবনব্রত ছিল, তাহার সহিত এই মরে সামঞ্জস্য হয় কিরূপে? অথবা, তিনি শুধু একটি ভাবমাত্র বর্ণনা করিতেছিলেন এবং নিজে সরিয়া দাঁড়াইয়া ঐ ভাবটিকে যতদর সম্ভব সমর্থন কবিতেছিলেন? অথবা, তাহার ‘সোসাইটি’ শব্দটি সেই অদ্ভুত প্রাচ্যদেশীয় ‘সমাজ’ শব্দের একটি ভুল অনুবাদমাত্র। প্রাচ্যে ‘সমাজ’ বলিলেই তাহার সহিত ঈশতন্ত্র শাসনের কিছু কিছু বুঝায়, এবং অন্য নানা ভাবের সঙ্গে আমাদের দেশে চার্চ বা যাজকসম্প্রদায়ের শাসন সম্বন্ধে যে ধারণা আছে তাহাও ইহার অন্তর্ভুক্ত। 

পরিব্রাজক আচার্য হিসাবে তাহার নিজের পদমর্যাদা কি, এই প্রশ্নেরও তিনি কিছু আলোচনা করেন, এবং বলেন, ধর্মসঙঘ সম্পর্কে অথবা একজনের কথায় বলিতে গেলে, “যে ধর্মমত সম্প্রদায়ে সীমাবদ্ধ (পরিণতি লাভ করে), তাহার সম্পর্কে ভারতের তেমন আস্থা নাই। ” তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্বাস ‘সঙ’ থেকে চিরকালই নূতন উৎপাতের সৃষ্টি হয়ে থাকে। ”

তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করিলেন, ঐ সময়ে পাশ্চাত্যে বহুল প্রচলিত কয়েকটি ধর্মসম্প্রদায় কাঞ্চনাসক্তিবশতঃ অচিরে বিনষ্ট হইবে।   তিনি ঘোষণা করেন–মানুষ সত্য হইতেই সত্যে অগ্রসর হইয়া থাকে, মিথ্যা হইতে সত্যে নহে। 

বস্তুতঃ এই মূল সত্যটিকেই তিনি সর্বদা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি হইতে প্রচার করিতেন যে, সকল ধর্মই সমভাবে সত্য, এবং আমাদের পক্ষে কোন অবতারের বিরুদ্ধ-সমালোচনা অসম্ভব, যেহেতু অবতারগণ সকলেই সেই এক অদ্বিতীয় ব্রহ্মের বিভিন্ন প্রকাশমাত্র।  এই স্থলে তিনি গীতার সেই সর্বশ্রেষ্ঠ শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন –

“যদা যদাহি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।”

অর্থাৎ, যখনই ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের অভ্যুদয় ঘটে, তখনই আমি আপনাকে সৃষ্টি করি।  সাধুগণের পরিত্রাণ, দুষ্কৃতকারিগণের বিনাশ, এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।।

এই ‘হিন্দু যোগী’-কে (লণ্ডনে তিনি যে নামে অভিহিত হইতেন) দেখিবার জন্য আমরা যে কয়জন আসিয়াছিলাম, তাহাদের কাহারও ধর্মে তেমন আস্থা বা বিশ্বাস ছিল না।  স্বামীজীর বামপার্শ্বে বসিয়াছিলেন ইতিহাস-প্রসিদ্ধ বংশের এক বৃদ্ধা মহিলা ফ্রেডারিক ডেনিসন মরিসের শিষ্যা ও বন্ধু। অগ্রণী হইয়া তিনিই মার্জিত শিষ্টাচারের সহিত প্রশ্নাদি করিতেছিলেন। বোধ হয়, ধর্মবিশ্বাসের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বাপেক্ষা কম উদারভাবাপন্না। গৃহকর্ত্রী স্বয়ং এবং অপর দুই-একজন, মনস্তত্ত্বই যে ধর্মবিশ্বাসের কেন্দ্র — এই প্রচলিত আধুনিক আন্দোলনের পক্ষপাতী ছিলেন।  কিন্তু আমার মনে হয়, সেদিন অপরাহ্নে আমাদের মধ্যে অনেককেই বাছিয়া নিমন্ত্রণ করা হইয়াছিল যেহেতু আমরা সহজে কোন ধর্মমতে আস্থা স্থাপন করিবার বিরোধী ছিলাম এবং ধর্মপ্রচার ব্যাপারে যে কিছু সত্য থাকিতে পারে, সে বিষয়ে প্রত্যয় জন্মানো ছিল কঠিন।  আমার এখন মনে হয়, সেদিন সেই সাক্ষাৎকারের শেষে বক্তা সম্বন্ধে আমরা যেরূপ দম্ভ ও উদাসীনতার সহিত নিজ নিজ অভিমত প্রকাশ করিয়াছিলাম, তাহার একমাত্র কৈফিয়ৎ দেওয়া যাইতে পারে এই বলিয়া যে, অবিবেচনাপ্রসূত অনুরাগ যাহাতে হৃদয় অধিকার না করে সেজন্য সর্বদা বিচারবুদ্ধিকে বাঁচাইয়া চলিবার অভ্যাস। বিদায় লইবার পূর্বে গৃহস্বামী ও গৃহকর্ত্রীর সহিত কথা কহিতে কহিতে আমরা এক এক করিয়া অভিযোগ করিলাম, “নূতনত্ব কিছুই নেই” — কেহ না কেহ এই সব বিষয়ে পূর্বেই বলিয়াছেন। 

কিন্তু আমার নিজের কথা বলিতে গেলে বলিতে হইবে যে, সেই সপ্তাহের নির্দিষ্ট কাজগুলি করিয়া যাইতে যাইতে ধীরে ধীরে আমার নিকট ইহা প্রতিভাত হইল যে, এক অপরিচিত সংস্কৃতির মধ্যে বর্ধিত, এক নূতন ধরনের চিন্তাশীল ব্যক্তি যে বার্তা বহন করিয়া আনিয়াছেন, তাহা এইরূপে উড়াইয়া দেওয়া কেবল অনুদারতার পরিচয় নহে, পরন্তু উহা অন্যায়।  আমার মনে হইল, ইনি যাহা কিছু বলিয়াছেন, তাহার অনুরূপ কথা পূর্বে আমি শুনিয়া অথবা ভাবিয়া থাকিতে পারি; কিন্তু এ পর্যন্ত যাহা কিছু আমার নিকট শ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট বলিয়া মনে হইয়াছে, সে সমস্ত মাত্র এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে প্রকাশ করিতে পারেন, এরূপ কোন চিন্তাশীল ব্যক্তির দর্শনলাভের সৌভাগ্য ইতিপূর্বে আমার জীবনে ঘটে নাই।  সুতরাং স্বামীজীর লণ্ডনে অবস্থানকালে তাঁহার বক্তৃতা শুনিবার যে দুইটি মাত্র সুযোগ মিলিয়াছিল, আমি তাহার সদ্ব্যবহার করিয়াছিলাম।

অতি উচ্চাঙ্গের সঙ্গীত আমাদের মনে যে অনুভূতির সৃষ্টি করে, বার বার শ্রবণে তাহা বর্ধিত ও গাঢ় হয়। সেইরূপ, সেই বক্তৃতা দুইটির লিপিবদ্ধ সারাংশ এখন পড়িতে পড়িতে, তখনকার অপেক্ষা বহুগুণ বিস্ময়কর মনে হইতেছে। কারণ, তখন আমি আচার্যদেবের নিকট যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করিতাম, তাহাতে একটা বেপরোয়া ভাব ছিল, পরে তাহার জন্য আমার অনুশোচনার অন্ত ছিল না।  যখন তিনি বলিতেছিলেন, “জগৎ হইল মাকড়সার জালের মতো, এবং মনগুলি সব মাকড়সা; কারণ মন এক, আবার বহু” — তখন তিনি এরূপ ভাষায় কথা বলিতেছিলেন, যাহা আমার পক্ষে দুর্বোধ্য।  তাহার বক্তৃতা আমি টুকিয়া লইয়াছিলাম, ভাল লাগিয়াছিল বলিয়া, কিন্তু ঐ সম্পর্কে কোন মতামত প্রকাশ করিতে পারি নাই; মানিয়া লওয়া দূরের কথা। তাহার উপদেশাবলী আমি কি ভাবে গ্রহণ করিতাম ইহাই তাহার সঠিক বর্ণনা; এমনকি, পর বৎসরেও যখন তাহার ঐবারকার সমুদয় বক্তৃতা আমি শুনিয়াছি — কেবল তাহা কেন, বলা চলে, যেদিন আমি ভারতে পদার্পণ করি, সম্ভবতঃ সেইদিন পর্যন্ত, আমার এইরূপ মনোভাবই ছিল।

স্বামীজীর উপদেশের মধ্যে এমন বহু বিষয় ছিল, যাহার সত্যতা শ্রবণমাত্রেই সকলের বোধগম্য হইত। যেমন, সাধারণতঃ যেভাবে সত্য বলিয়া দাবি করা হয়, কোন ধর্মই সেভাবে সত্য না হইলেও সকল ধর্মই এক হিসাবে সমভাবে সত্য — এই মতটিকে আমাদের মধ্যে অনেকেই তৎক্ষণাৎ স্বীকার করিতে বাধ্য হইলেন। যখন তিনি বলিলেন, ঈশ্বর প্রকৃতপক্ষে নিরাকার, কিন্তু ইন্দ্রিয়রূপ কুহেলিকার মধ্য দিয়া দেখার জন্য তিনিই সাকাররূপে প্রতিভাত হন, তখন ভাবটির সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ ও স্তম্ভিত হইলাম। যখন তিনি বলিলেন, কোন কার্যের পশ্চাতে অবস্থিত ভাবটি ঐ কার্য অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী, অথবা যখন তিনি নিরামিষ-ভোজনের প্রশংসা করিলেন, তখন আমরা ভাবিলাম, সহজেই উহা পরীক্ষা করিয়া দেখা যাইতে পারে। কিন্তু আমার নিজের কথা বলিতে গেলে তাহার সমগ্র মতবাদকেই আমি সন্দেহের চক্ষে দেখিতে লাগিলাম। জগতের কতকগুলি ধর্মমত এইরূপ যে, যদি কেহ প্রথমে ঐগুলি মানিয়া লয়, তবে পরে নিশ্চিতই তাহাকে উহাদের গণ্ডি অতিক্রম করিয়া অবশেষে পরিত্যাগ করিতে হয়।  আমার মনে হইল, স্বামীজীর ধর্মমতও ঐরূপ ধর্মমতের অন্যতম। আর এইভাবে মত পরিবর্তনের ফলে কতটা যন্ত্রণা ও আত্মগ্লানি উপস্থিত হয়, তাহা ভাবিলে আর কেহ ওপথে অগ্রসর হইতে চাহে না।

গ্রন্থের প্রারম্ভেই সকল কথা স্পষ্টভাবে বলা কঠিন। স্বামীজীর ইংলণ্ড পরিত্যাগের পূর্বেই এমন দিন আসিয়াছিল, যখন আমি তাহাকে ‘গুরুদেব’ (Master) বলিয়া সম্বোধন করিয়াছিলাম।  তিনি যে বীরোচিত উপাদানে গঠিত ছিলেন তাহা আমি হৃদয়ঙ্গম করিয়াছিলাম, এবং তাহার স্বজাতিপ্রেমের নিকট আমি সম্পূর্ণ আনুগত্য স্বীকার করিতে চাহিয়াছিলাম।  কিন্তু আমার এই আনুগত্য স্বীকার শুধু তাঁহার চরিত্রের নিকটেই। আমি দেখিতে পাইলাম যে, ধর্মোপদেষ্টারূপে জগৎকে দিবার জন্য তাহার একটি স্বতন্ত্র মতবাদ আছে বটে, কিন্তু যদি তিনি অন্য কোথাও সত্যের প্রকাশ দেখেন, তাহা হইলে মুহূর্তের জন্যও তিনি ঐ মতবাদের কোন অংশ সমর্থন করিবেন না। আর এই বিষয়টি যতদূর বুঝিতে পারিয়াছিলাম, ততদূর পর্যন্তই আমি তাঁহার শিষ্য হইয়াছিলাম। বাকি যাহা কিছু, তাহার জন্য আমি তাহার উপদেশাবলী বিশেষরূপে আলোচনা করিয়া বুঝিয়াছিলাম, তাহার প্রচারিত তত্ত্বের মধ্যে কোন অসংলগ্ন ভাব নাই; কিন্তু হাতে-কলমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাহার প্রতিপাদ্য বিষয়গুলি আমি চরম সত্য বলিয়া গ্রহণ করি নাই।  আর যদিও তাঁহার চরিত্র মাহাত্ম্য আমি অতীব আকৃষ্ট হইয়াছিলাম, তথাপি আমার পরিচিত যে কোন চিন্তাশীল বা প্রতিভাবান ব্যক্তির এবং তাহার মধ্যে চরিত্রবিকাশের দিক দিয়া যে বিপুল পার্থক্য আমি পরে দেখিবার সৌভাগ্যলাভ করি, ঐ সময়ে তাহা স্বপ্নেও কল্পনা করিতে পারি নাই।

ক্লাসের অপর সকলে আমার এই সন্দেহের ভাব বিশেষরূপে অবগত ছিলেন, এবং অপেক্ষাকৃত ভাগ্যবান এক শিষ্য বহু পরে স্বামীজীর সমক্ষে এই বিষয় লইয়া আমাকে পরিহাস করিয়া বলিতেছিলেন যে, তিনি কিন্তু বরাবরই স্বামীজীর মুখে শোনা প্রত্যেকটি কথা মানিয়া লইতে সমর্থ হইয়াছেন।  স্বামীজী সে সময়ে এই কথাবার্তায় কোন মনোযোগ দেন নাই বলিলেই হয়, কিন্তু পরে এক সুযোগে আমাকে একান্তে বলিয়াছিলেন, “কেহ যেন এই ভেবে দুঃখ না করে যে, তাকে বোঝাবার জন্য অপর কাউকে বিলক্ষণ কষ্ট পেতে হয়েছে। আমি দীর্ঘ ছয় বৎসর ধরে আমার গুরুদেবের সঙ্গে সংগ্রাম করেছি, ফলে পথের প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি আমার নখদর্পণে। ”

এই প্রথম কথাবার্তার মধ্যে দুই-একটি বিষয় স্মৃতিপটে স্পষ্টভাবে জাগ্রত আছে।  এককালে খ্রীস্টধর্ম বলিতে আমি বুঝিতাম ঈশ্বরকে জগৎপিতা জ্ঞানে উপলব্ধি করা। কিন্তু বহুকাল এই ভাবের উপাসনায় বিশ্বাস হারাইবার ফলে আমি অত্যন্ত দুঃখিত ছিলাম।  ঐরূপ ধারণার বাস্তব সত্যতা বা অসত্যতার দিকে দৃষ্টি . রাখিয়া কেবল ধারণা বা কল্পনা হিসাবে ইহার মূল্য কি, তাহা ভাল করিয়া বুঝিয়া দেখিতে চাহিয়াছিলাম। কারণ আমি অনুমান করিয়াছিলাম, যাহারা ঐরূপ ধারণা পোষণ করেন, তাঁহাদের চরিত্রের উপর এবং সম্ভবতঃ তাহাদের সভ্যতার উপরেও উহা নিজের একটি প্রভাব বিস্তার করিবে। তুলনা করিয়া দেখিবার উপাদানের অভাববশতঃ বিষয়টি আমি বেশি দূর অনুধাবন করিতে পারি নাই।  আর, আশ্চর্যের বিষয়, এমন একজন ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাওয়া গেল, যিনি আমাদের নিকট পঁচরকম উপাসনা-প্রণালীর কথা বলিলেন, যাহাতে ঈশ্বরকে ব্যক্তিরূপে কল্পনা বা ধারণা করা হইয়া থাকে। তিনি এমন একটি ধর্মপ্রচার করিতেছিলেন যাহার প্রথম সোপান হইল ধর্মভাবগুলিকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভাগ করা।

কয়েকটি ভারতীয় ভাবের নূতনত্ব ও গাম্ভীর্যে আমি বিশেষ আকৃষ্ট হই — ঐ সকল ভাবের সহিত আমার এই প্রথম পরিচয়। বস্তুতঃ রূপকের অন্তর্গত নূতনত্ব ও চিন্তাপ্রণালীর ভিন্ন গতি যেন সম্পদ বলিয়া মনে হইয়াছিল। দৃষ্টান্তস্বরূপ সেই সাধুর গল্পটি উল্লেখ করা যাইতে পারে। এক চোর ধরা পড়িয়াছে ভাবিয়া ভয়ে চুরিকরা বাসন-পত্ৰ ফেলিয়া পলাইতেছে, আর সাধুটি সেই সব লইয়া তাহার পশ্চাতে ছুটিতেছেন। অবশেষে তাহার পায়ের নিকট সমস্ত জিনিসগুলি রাখিয়া সজলনয়নে সাধু বলিলেন, “প্রভু, আমি জানতাম না আপনি ওখানে ছিলেন। এসব জিনিস আপনার, গ্রহণ করুন। সন্তানের অপরাধ ক্ষমা করুন। ” সেই সাধুটির সম্পর্কেই আর একটি গল্প শুনিয়াছিলাম। গোখরা সাপের দংশন হইতে রাত্রিকালে যখন তিনি আরোগ্যলাভ করেন তখন এই বলিয়া উহার বর্ণনা দেন, “প্রিয়তমের নিকট থেকে দূত এসেছিল। ” মরুভূমিতে মরীচিকা দর্শনে জগৎ সম্বন্ধে স্বামীজী অনুমান দ্বারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তাহার কথাও বলা যাইতে পারে।  পনর দিন ধরিয়া মরীচিকা দর্শন করেন এবং সর্বক্ষণই উহা জল বলিয়া তাহার বোধ হয়। কিন্তু একদিন তৃষ্ণার্ত হইয়া জল ভাবিয়া উহা পান করিতে গিয়া বুঝিতে পারিলেন উহা মিথ্যা! ইহার পর পুনরায় পনর দিন ধরিয়া ঐ মরীচিকা দেখিতে পাইলেও বরাবরই তিনি উহাকে মিথ্যা বলিয়া জানিতেন। যে উপলব্ধির ফলে তাহার এই অপূর্ব জ্ঞানলাভ হয়, যে দর্শনের ফলে এই মরুভূমির মধ্য দিয়া যাত্রা ও জীবনযাত্রা এই উভয়ের মধ্যে তিনি একটা সাদৃশ্য আবিষ্কার করিতে সক্ষম হন, তাহা বুঝিতে পাবাই একটা যথার্থ শিক্ষা!

কিন্তু স্বামীজীর উপদেশের মধ্যে এই দুইটি ব্যতীত আর একটি তৃতীয় জিনিস ছিল — যাহা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং সেজন্যই আমার বিস্ময় উৎপাদন করিয়াছিল। উচ্চ উচ্চ ভাবের ব্যাখ্যাতা বহু বক্তাকে ধর্মমন্দিরের বেদী হইতেও বক্তৃতা করিতে শুনিয়াছি — স্বামীজী ঠিক তাহাদের মতো একজন বক্তা মাত্র ছিলেন না, তাহা আমি সহজেই ধরিতে পারিয়াছিলাম।  ধনী ও অলস উচ্চশ্রেণীর ব্যক্তিগণের তৃপ্তির জন্য তাহাদের সামনে কাব্য ও তর্কযুক্তির সৌখীন খাদ্যদ্রব্য উপস্থাপিত করা স্বামীজীর একেবারেই অভিপ্রেত ছিল না।  খ্রীস্টধর্মের একজন নগণ্য প্রচারক অথবা ‘মুক্তিফৌজের’ (Salvation Army) কোন কর্মচারী যেমন জগতের সকল নরনারীকে ভগবানের রাজ্যে প্রবেশ করিবার জন্য আহ্বান করিয়া থাকেন, অন্ততঃ তাহার নিজের দিক দিয়া চিন্তা করিলে স্বামীজী ঠিক সেইরূপ একজন ধর্মপ্রচারক হিসাবেই সকল নরনারীকে ধর্মের নামে আহ্বান করিতেছিলেন।  তথাপি আমাদের মধ্যে যাহা কিছু শ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট তাহারই দিকে দৃষ্টি রাখিয়া তিনি নিজের কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর হইয়াছিলেন।  ‘পাপ একটা দুঃস্বপ্ন মাত্র’ তাঁহার এই ঘোষণার কথা বলিতেছি না। এইরূপ একটি মতবাদ কোন জটিল ধর্মতত্ত্ব-ব্যাখ্যার অঙ্গমাত্র হইতে পারে তাহা আমার জানা ছিল।  ‘কেহ আমাদের জামা চুরি করিলে আলখাল্লাটিও তাহাকে দেওয়া উচিত’ এই মতবাদ আমাদের নিকট যতটা সত্য, বাস্তব জগতে পূর্বোক্ত মতটি উহার ব্যাখ্যাতার নিকট ততটাই সত্য। তাহার একটি দৃষ্টান্ত আমার নিকট অতীব বিস্ময়কর বোধ হইয়াছিল।  শ্রোতৃব—র্গের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন সম্রান্তবংশীয় অল্পবয়স্কা জননী।  রাস্তায় তাহাদের সামনে সহসা একটি বাঘ আসিয়া পড়িলে তাহারা কিরূপ ভীত হইয়া পলায়নে তৎপর হইবেন, সেই কথা তিনি বলিতেছিলেন।  হঠাৎ কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করিয়া বলিলেন, “কিন্তু মনে কর, একটি শিশু বাঘটার সামনে পড়েছে; তখন তোমরা কোথায় থাকবে বল দেখি? বাঘের মুখে — তোমাদের প্রত্যেকেই — এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত। ”

সুতরাং সেই শীতকালে স্বামীজী ইংলণ্ড পরিত্যাগ করিয়া আমেরিকায় গমন করিবার পর, আমি তাহার সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় স্মরণ করিয়া গভীরভাবে চিন্তা করিতাম। প্রথমতঃ তাহার উদার ধর্মবিষয়ক-শিক্ষা; দ্বিতীয়তঃ তাহার ভাবগুলির মধ্যে যে যুক্তিবিচার ছিল, তাহার অপূর্ব নূতনত্ব ও গাম্ভীর্য; তৃতীয়তঃ তাহার আহ্বান ছিল মানব-প্রকৃতির মধ্যে যাহা কিছু শ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা সুন্দর তাহার প্রতি এবং কোন ক্রমেই তাহার নিকৃষ্ট ভাবগুলির প্রতি নহে।


এই বিখ্যাত চিত্রখানির মধ্যস্থলে শিশু ঈশা ও তাহার জননী মেরীর জ্যোতির্মণ্ডিত মূর্তি, বামে সেন্ট সেন্টাসের, দক্ষিণে সেন্ট বাববাবার, এবং নিম্নে দুইটি দেব শিশুর মূর্তি অঙ্কিত আছে। বর্তমানে চিত্রটি ড্রেসডেনে।
পোপ প্রথম গ্রেগরি
ইনি খ্রীস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রাদুর্ভূত হন।
ঈশতন্ত্র শাসন (Theocracy) — যে রাজ্য সাক্ষাৎ ঈশ্বব বা তৎপ্রতিনিধি যাজকগণ কর্তৃক পরিচালিত হয়। এ মতে রাজ্যের আইনগুলি মানব কর্তৃক প্রণীত নহে, পরন্তু সাক্ষাৎ ঈশ্ববাদেশ।
John Frederich Danison Maurice (১৮০৫-১৮৭২) বিখ্যাত ইংরেজ ধর্মতত্ত্বব্যাখ্যা অধ্যাপক ও গ্রন্থকার। নিজ প্ৰখরবুদ্ধি, চবিএল ও নিযাতিতগণের প্রতি প্রগাঢ় সহানুভূতিবশতঃ ইনি লণ্ডনের সামাজিক জীবনে ও পণ্ডিতমহলে বিশে প্রভাব বিস্তাব করিয়াছিলেন — অনুঃ