মূল পৃষ্ঠা

পূর্ব পরিচ্ছেদ

চতুস্ত্রিংশ পরিচ্ছেদ

১৮৮৩, ১৬ই অক্টোবর


বলরামের পিতা, মণি মল্লিক, বেণী পাল প্রভৃতি বিদায় গ্রহণ করিতেছেন। সন্ধ্যার পর কাঁসারীপাড়ার হরিসভার ভক্তেরা আসিয়াছেন।


তাঁহাদের সঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ মত্ত মাতঙ্গের ন্যায় নৃত্য করিতেছেন।


নৃত্যের পর ভাবাবিষ্ট। বলছেন, আমি খানিকটা আপনি যাবো।


কিশোরী ভাবাবস্থায় পদসেবা করিতে যাইতেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ কারুকে স্পর্শ করিতে দিলেন না।


সন্ধ্যার পর ঈশান আসিয়াছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ বসিয়া আছেন -- ভাবাবিষ্ট। কিছুক্ষণ পরে ঈশানের সঙ্গে কথা কহিতেছেন। ঈশানের ইচ্ছা, গায়ত্রীর পুরশ্চরণ করা।


শ্রীরামকৃষ্ণ (ঈশানের প্রতি) -- তোমার যা মনোগত তাই করো। মনে আর সংশয় নাই তো?


[কলিতে নিগমের পথ নয় -- আগমের পথ ]


ঈশান -- আমি একরকম প্রায়শ্চিত্তের মতো সঙ্কল্প করেছিলাম।


শ্রীরামকৃষ্ণ -- এ-পথে (আগমের পথে) কি তা হয় না? যিনিই ব্রহ্ম তিনিই শক্তি, কালী। আমি কালীব্রহ্ম জেনে মর্ম ধর্মাধর্ম সব ছেড়েছি।


ঈশান -- চন্ডীর স্তবে আছে, ব্রহ্মই আদ্যাশক্তি। ব্রহ্ম-শক্তি অভেদ।


শ্রীরামকৃষ্ণ -- এইটি মুখে বললে হয় না, ধারণা যখন হবে তখন ঠিক হবে।


“সাধনার পর চিত্তশুদ্ধি হলে ঠিক বোধ হবে তিনিই কর্তা, তিনিই মন-প্রাণ-বুদ্ধিরূপা। আমারা কেবল যন্ত্রস্বরূপ। পঙ্কে বদ্ধ কর করী, পঙ্গুরে লঙ্ঘাও গিরি।


“চিত্তশুদ্ধি হলে বোধ হবে, পুরশ্চরণাদি কর্ম তিনিই করান। যাঁর কর্ম সেই করে লোকে বলে করি আমি।


“তাঁকে দর্শন হলে সব সংশয় মিটে যায়। তখন অনুকূল হাওয়া বয়। অনুকূল হাওয়া বইলে মাঝি যেমন পাল তুলে দিয়ে হালটি ধরে বসে থাকে, আর তামাক খায়, সেইরূপ ভক্ত নিশ্চিন্ত হয়।”


ঈশান চলিয়া গেলে শ্রীরামকৃষ্ণ মাস্টারের সহিত একান্তে কথা কহিতেছেন। জিজ্ঞাসা করিতেছেন, নরেন্দ্র, রাখাল, অধর, হাজরা এদের তোমার কিরূপ বোধ হয়, সরল কি না। আর আমাকে তোমার কিরূপ বোধ হয়। মাস্টার বলিতেছেন, “আপনি সরল আবার গভীর -- আপনাকে বুঝা বড় কঠিন।”


শ্রীরামকৃষ্ণ হাসিতেছেন।


পরবর্তী পরিচ্ছেদ