মূল পৃষ্ঠা

পূর্ব পরিচ্ছেদ

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

১৮৮৫, ১১ই মার্চ

ঠাকুর ভক্তমন্দিরে -- সংবাদপত্র -- নিত্যগোপাল

দ্বারদেশে গিরিশ; ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে গৃহমধ্যে লইয়া যাইতে আসিয়াছেন। ঠাকুর ভক্তসঙ্গে যেই নিকটে এলেন, অমনি গিরিশ দণ্ডের ন্যায় সম্মুখে পড়িলেন। আজ্ঞা পাইয়া উঠিলেন, ঠাকুরের পদধূলা গ্রহণ করিলেন ও সঙ্গে করিয়া দু-তলায় বৈঠকখানা ঘরে লইয়া বসাইলেন। ভক্তেরা শশব্যস্ত হয়ে আসন গ্রহণ করিলেন -- সকলের ইচ্ছা, তাঁহার কাছে বসেন ও তাঁহার মধুর কথামৃত পান করেন।


আসন গ্রহণ করিতে গিয়া ঠাকুর দেখিলেন, একখানা খবরের কাগজ রহিয়াছে। খবরের কাগজে বিষয়ীদের কথা। বিষয়কথা, পরচর্চা, পরনিন্দা তাই অপবিত্র -- তাঁহার চক্ষে। তিনি ইশারা করলেন, ওখানা যাতে স্থানান্তরিত করা হয়।


কাগজখানা সরানো হবার পর আসন গ্রহণ করিলেন।


নিত্যগোপাল প্রণাম করিলেন।


শ্রীরামকৃষ্ণ (নিত্যগোপালের প্রতি) -- ওখানে?


নিত্য -- আজ্ঞা হাঁ, দক্ষিণেশ্বরে যাই নাই। শরীর খারাপ। ব্যাথা।


শ্রীরামকৃষ্ণ -- কেমন আছিস?


নিত্য -- ভাল নয়।


শ্রীরামকৃষ্ণ -- দুই-এক গ্রাম নিচে থাকিস।


নিত্য -- লোক ভাল লাগে না। কত কি বলে -- ভয় হয়। এক-একবার খুব সাহস হয়।


শ্রীরামকৃষ্ণ -- তা হবে বইকি! তোর সঙ্গে কে থাকে?


নিত্য -- তারক। ও সর্বদা সঙ্গে থাকে, ওকেও সময়ে সময়ে ভাল লাগে না।


শ্রীরামকৃষ্ণ -- ন্যাংটা বলত, তাদের মঠে একজন সিদ্ধ ছিল। সে আকাশ তাকিয়ে চলে যেত; গণেশগর্জী -- সঙ্গী যেতে বড় দুঃখ -- অধৈর্য হয়ে গিছল।


বলিতে বলিতে শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবান্তর হইল। কি ভাবে অবাক হয়ে রহিলেন। কিয়ৎ পরে বলিতেছেন, “তুই এসেছিস? আমিও এসেছি।”


এ কথা কে বুঝিবে? এই কি দেব-ভাষা?



শ্রী তারকনাথ ঘোষাল -- শ্রীশিবানন্দ

পরবর্তী পরিচ্ছেদ