পঞ্চম খণ্ড
কাশীপুরে স্থানপরিবর্তন ও অন্তরঙ্গ-বাছাই
বন্দ
মন বিশ্বগুরু রামকৃষ্ণরায় ।
প্রেমানন্দে বন্দ গুরুদারা জগন্মায় ॥
অবনী লুটায়ে বন্দ ভক্ত দোঁহাকার ।
যাঁদের হৃদয়মধ্যে যুগল বিহার ॥
প্রভুর প্রকৃতিখানি বিচিত্র
প্রকার ।
নিয়ম বিধান শাস্ত্র সকলের পার ॥ ১ ॥
সীমাতীত বিধাতার কার্যে কি শরীরে ।
আগাগোড়া লীলাগীতি সাক্ষ্য দান করে ॥ ২ ॥
নরদেহে বিগ্রহের ইহাই লক্ষণ ।
যে দেহে ধাতার নাই মাত্র পরশন ॥ ৩ ॥
শ্রীপ্রভুর তনুখানি যে যে উপাদানে ।
সৃষ্টিছাড়া যে সকল ধাতাও না জানে ॥ ৪ ॥
ব্যাধি-বিনাশনে বিধি নাগাল না পায় ।
দিনে দিনে বৃদ্ধি পুনঃ বেদনা গলায় ॥ ৫ ॥
উদরে না যায় ভোজ্য ক্ষীণ অঙ্গখানি ।
এইবার স্বরভঙ্গ কষ্টে সরে বাণী ॥ ৬ ॥
যে কণ্ঠের স্বর শুনে বীণার সরম ।
সেই স্বর এইবারে কৈল পলায়ন ॥ ৭ ॥
সশঙ্কিত-চিত এবে ডাক্তার প্রধান ।
স্থান-পরিবর্তনের দিলেন বিধান ॥ ৮ ॥
যে যা বলে তাই করে অন্তরঙ্গগণে ।
সত্বর চলিল রাম বাড়ি-অন্বেষণে ॥ ৯ ॥
তিয়াগিয়া কর্ম-কাজ চারিদিকে ধায় ।
মনের মতন বাড়ি কোথাও না পায় ॥ ১০ ॥
ক্লান্ত-কলেবর তেঁহ ঘুরিয়া ঘুরিয়া ।
কোথা যাই কোথা যাই ভাবেন বসিয়া ॥ ১১ ॥
হেনকালে মনে মনে হৈল সমুদিত ।
সর্বজ্ঞ শ্রীপ্রভুদেব সকল বিদিত ॥ ১২ ॥
কোথায় বৈঠক হবে আছে তাঁর জানা ।
জিজ্ঞাসা করিব তাঁয় মিছার ভাবনা ॥ ১৩ ॥
এত ভাবি শ্রীগোচরে রাম ভক্তবর ।
নিবেদিলা একে একে যতেক খবর ॥ ১৪ ॥
পশ্চাতে জিজ্ঞাসা কৈলা কাকুতি করিয়া ।
কোন্দিকে পাব বাড়ি দেন দেখাইয়া ॥ ১৫ ॥
শুনিয়া রামের কথা শ্রীমুখেতে হাস ।
যেখানে মিলিবে বাড়ি দিলেন আভাস ॥ ১৬ ॥
শ্রীপ্রভুর প্রদর্শিত দিক্ অনুসারে ।
উপনীত রাম হৈলা কাশীপুরে ॥ ১৭ ॥
মহিমের কাছে রাম পাইলা সন্ধান ।
সন্নিকটে আছে এক বিরাট বাগান ॥ ১৮ ॥
সুন্দর দ্বিতল বাড়ি তাহার ভিতরে ।
ফুলের ফলের গাছ বহু চারিধারে ॥ ১৯ ॥
সুন্দর সরসীদ্বয় শানে বাঁধা ঘাট ।
শোভমান পুষ্পোদ্যানে মাঝে মাঝে বাট ॥ ২০ ॥
কোম্পানির বড় পথ বাগানের পাশে ।
চারি কুড়ি টাকা ভাড়া ধার্য মাসে মাসে ॥ ২১ ॥
বাগানের অধিকার যে দিনে হইল ।
সেই দিনে শ্রীপ্রভুর বৈঠক উঠিল ॥ ২২ ॥
ভারি খুশী হৈলা রায় দেখিয়া বাগান ।
ভক্তসঙ্গে চারিদিকে বেড়িয়ে বেড়ান ॥ ২৩ ॥
পাছু পাছু আসিলেন মাতা ঠাকুরানী ।
স্বতন্ত্র মহলে বাসা লইলেন তিনি ॥ ২৪ ॥
ভক্ত-মা সঙ্গেতে আছে ছায়ার মতন ।
দোঁহাকার পাদপদ্মে মগ্ন যাঁর মন ॥ ২৫ ॥
প্রভু আর মায়ে ভিন্ন অন্যে নাহি জানে ।
কুল-শীল জলাঞ্জলি যাদের কারণে ॥ ২৬ ॥
একপাশে পাকশালা বেড়ায় আটক ।
মায়ের মহল পূর্বে রহিল পৃথক ॥ ২৭ ॥
এখানে দ্বিতলভাগে প্রভুর আসন ।
তার নিম্নতলে রহে অন্তরঙ্গগণ ॥ ২৮ ॥
মাঝে মাঝে ডাক্তার আসেন এইখানে ।
চিকিৎসায় শ্রীপ্রভুর ঔষধ-বিধানে ॥ ২৯ ॥
দিনে দিনে কমে পীড়া স্বাস্থ্যের উন্নতি ।
ভক্তবর্গে ডাক্তার সহিত পান প্রীতি ॥ ৩০ ॥
পূর্বাপেক্ষা অঙ্গে হৈল বলের সঞ্চার ।
উদ্যানে নামিয়া নীচে করেন বিহার ॥ ৩১ ॥
অবিরত আনন্দের উচ্চরোল উঠে ।
গীত-বাদ্যে গোটা বাড়ি যেন পড়ে ফেটে ॥ ৩২ ॥
এক এক দিন রঙ্গ যতেক ঘটনা ।
লিখিলেও জন্ম জন্ম না যায় বর্ণনা ॥ ৩৩ ॥
এ সময়ে শ্রীপ্রভুর সেবার কারণ ।
গৃহত্যাগ একেবারে কৈলা কয়জন ॥ ৩৪ ॥
নরেন্দ্র রাখাল কালী নিত্যনিরঞ্জন ।
যোগীন শরৎ শশী এ তিন ব্রাহ্মণ ॥ ৩৫ ॥
ভক্ত বসু বলরাম শ্যালক তাঁহার ।
মহাভক্ত বাবুরাম বয়সে কুমার ॥ ৩৬ ॥
মুরব্বী গোপাল যাঁর সিঁতিগ্রামে ঘর ।
লাটু নহে এ দেশীয় আছে বরাবর ॥ ৩৭ ॥
তারক ঘোষাল তেঁহ ছিলা অন্য স্থানে ।
এইখানে মিলিলেন ইহাদের সনে ॥ ৩৮ ॥
তিয়াগিয়া ঘরবাড়ি একটানে থাকে ।
কানেও না শুনে যত আত্মীয়েরা ডাকে ॥ ৩৯ ॥
শ্রীপদে অটল রাগ দেখি হৃদিবাস ।
অন্তরে ঢালিয়া দিলা অপার বিশ্বাস ॥ ৪০ ॥
দিবস বিশেষে আজ্ঞা কখন কাহারে ।
এখানে আসিয়া হেথা দক্ষিণশহরে ॥ ৪১ ॥
পঞ্চবটমূলেতে রচিয়া যোগাসন ।
করিবারে ধ্যানজপ সাধন ভজন ॥ ৪২ ॥
তপাচারে জোর আজ্ঞা নরেন্দ্রের প্রতি ।
বীরশ্রেষ্ঠ অঙ্গে যাঁর অপার শকতি ॥ ৪৩ ॥
মধুর ভারতী কহি শুন এক মনে ।
কিবা প্রভু কিবা তাঁর অন্তরঙ্গগণে ॥ ৪৪ ॥
প্রভুদেব নিজে পূর্ণব্রহ্মসনাতন ।
তাঁর শক্তি অংশ যত অবতারগণ ॥ ৪৫ ॥
অবতারদিগের প্রভুর অঙ্গে ধাম ।
সেইহেতু শ্রীপ্রভুর অবতরী নাম ॥ ৪৬ ॥
অবতরী মানে যাঁর আবির্ভাব-কালে ।
অন্তরঙ্গ-বেশে আসে অবতার দলে ॥ ৪৭ ॥
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদি এই অবতারগণ ।
ঈশ্বর-কোটির তাঁরা প্রভুর বচন ॥ ৪৮ ॥
কোন্ কোন্ ভক্ত শুন ঈশ্বর-কোটির ।
শ্রীপ্রভুর আবির্ভাবে লীলায় হাজির ॥ ৪৯ ॥
নিরঞ্জন বাবুরাম ছোট শ্রীনরেন্দ্র ।
শ্রীরাখাল শ্রীযোগীন আর পূর্ণচন্দ্র ॥ ৫০ ॥
বরাহনগরে বাড়ি ভবনাথ আর ।
শ্রীতারক বেলঘোরিয়ায় ঘর যাঁর ॥ ৫১ ॥
প্রায় সবে কৃতদার হইলা ইঁহারা ।
নিরঞ্জন বাবুরাম এই দুই ছাড়া ॥ ৫২ ॥
যোগীনের নামে বিয়া বিয়ায় অসুখ ।
রমণীর কোনকালে দেখিলা না মুখ ॥ ৫৩ ॥
প্রভুর নরেন্দ্র যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ বীর ।
ঈশ্বর-কোটির থেকে অত্যুচ্চ শ্রেণীর ॥ ৫৪ ॥
বলিতেন প্রভুদেব অখিলবিহারী ।
একাকী নরেন্দ্রেনাথ জ্ঞানে অধিকারী ॥ ৫৫ ॥
জ্ঞানী যিনি জ্ঞানে যাঁর আছে অধিকার ।
জগৎ জগদীশ্বর সে দুয়ের পার ॥ ৫৬ ॥
মায়ার রাজ্যের মধ্যে এ দুয়ের গতি ।
মায়ার উপরে কিন্তু গিয়ানীর স্থিতি ॥ ৫৭ ॥
মায়ার সঙ্গেতে জ্ঞানী সম্বন্ধ না রাখে ।
সেইহেতু জ্ঞানী যিনি অথণ্ডের থাকে ॥ ৫৮ ॥
অখণ্ড শ্রেণীর লোক নরেন্দ্র বিদিত ।
ভূবনমোহিনী মায়া তাহার অতীত ॥ ৫৯ ॥
মায়ার অতীত বস্তু হন যেইজন ।
তাঁহারে ভুলাতে নারে কামিনী-কাঞ্চন ॥ ৬০ ॥
মায়ার অন্তরগত বস্তু যাবতীয় ।
জ্ঞানীতে সে সবে দেখে অতিশয় হেয় ॥ ৬১ ॥
আগাগোড়া দেখিতেছি কায়বাক্যমনে ।
নরেন্দ্রের ভারি ঘৃণা কামিনী-কাঞ্চনে ॥ ৬২ ॥
অর্থের অভাবে কষ্ট পান নিরন্তর ।
ভবনেতে অল্পবয়ঃ সোদরা সোদর ॥ ৬৩ ॥
নিজে জ্যেষ্ঠ যোগ্য তায় অর্থ-উপার্জনে ।
তথাপি না হয় মন সংসার-সেবনে ॥ ৬৪ ॥
প্রবল বাসনা মনে সাধ উগ্রতর ।
বিবেক-বৈরাগ্য কিসে হইবে প্রখর ॥ ৬৫ ॥
নিরন্তর প্রীতিকর তপ যোগ যাগ ।
সংসারের কর্মকাণ্ডে অতি বীতরাগ ॥ ৬৬ ॥
অনুরাগ একমাত্র ব্রহ্মনিরাকারে ।
অরূপ অগুণ যিনি মায়ার ওপারে ॥ ৬৭ ॥
প্রকৃতি বুঝিয়া তাঁর তাই প্রভুরায় ।
ধ্যানে তপে জোর আজ্ঞা করিলেন তাঁয় ॥ ৬৮ ॥
শ্রীপ্রভুর আজ্ঞামত করিয়া সাধন ।
হইত না নরেন্দ্রের পরিতৃপ্ত মন ॥ ৬৯ ॥
আবেদন শ্রীগোচরে হইত কেবল ।
বলিলেন যেমন কৈন্তু কি হইল ফল ॥ ৭০ ॥
তদুত্তরে বলিতেন লীলার ঈশ্বর ।
মুই কৈনু ষোল-আনা তুই সিকি কর ॥ ৭১ ॥
খানদানী চাষা যার চাষে গুজরান ।
দশ বর্ষ অনাবৃষ্টি নাহি পায় ধান ॥ ৭২ ॥
তথাপিহ কৃষিকর্ম ছাড়িতে না পারে ।
দুনো বলে দেয় হাল মাটি কাঁপে ডরে ॥ ৭৩ ॥
যদ্যপিহ নাহি পায় হাতে হাতে ফল ।
সময়ে সকল কর্ম মিলিবে ফসল ॥ ৭৪ ॥
ত্যাগিবর যোগিবর সাধকপ্রধান ।
স্বভাবে সাধনা-প্রিয় বীর বলবান ॥ ৭৫ ॥
অঙ্গভূষা শ্রীপ্রভুর নরেন্দ্র এখানে ।
গোটা রাতি ধুনী পাশে রহেন ধিয়ানে ॥ ৭৬ ॥
ভস্মমাখা গোটা অঙ্গে কৌপীনধারণ ।
পাতা আছে বাঘছাল যাহাতে আসন ॥ ৭৭ ॥
নিত্যনিরঞ্জন কালী শরৎ ও যোগীন ।
সকলেই নরেন্দ্রের আজ্ঞার অধীন ॥ ৭৮ ॥
মনে প্রাণে মাখামাখি ভাব পরস্পরে ।
প্রত্যেকেই ঠাঁই ঠাঁই তপ ধ্যান করে ॥ ৭৯ ॥
সাধনভজনে সাধ নাহিক শরীর ।
কিবা রাত্রি কিবা দিন সেবায় হাজির ॥ ৮০ ॥
সুস্থাবস্থা শ্রীপ্রভুর করি দরশন ।
সোৎসাহে সকলে করে সাধন-ভজন ॥ ৮১ ॥
পুলকিত অতিশয় মহেন্দ্র ডাক্তার ।
ভাবিলা সম্যগারোগ্য শ্রীপ্রভু এবার ॥ ৮২ ॥
অন্তরে ভরসা আশা গৃহী ভক্তগণে ।
যোগায় সকল ব্যয় সেবার কারণে ॥ ৮৩ ॥
সংসারী বিষয়কর্মে রহে নিরস্তর ।
প্রভু-দরশনে আসে যবে অবসর ॥ ৮৪ ॥
বিশেষতঃ রবিবারে সেবার মেলানি ।
নৃত্য-গীত রঙ্গ-রস কতই না জানি ॥ ৮৫ ॥
মাসাধিক কাল প্রায় এমতে কাটিন ।
ইংরাজের নববর্ষ এখন পড়িল ॥ ৮৬ ॥
আঠারশ ছিয়াশির সাল গণনায় ।
বিশেষতঃ দিন ইহা প্রভুর লীলায় ॥ ৮৭ ॥
প্রথম দিবস আজি নব বরষেতে ।
একাদশী তিথি আজি হিন্দুদের মতে ॥ ৮৮ ॥
প্রভুর প্রতিজ্ঞা ছিল শুন বিবরণ ।
হাটেতে ভাঙ্গিব হাঁড়ি যাইব যখন ॥ ৮৯ ॥
সেই হাঁড়ি-ভাঙ্গা রঙ্গ আজিকার দিনে ।
কি ভাবে ভাঙ্গিলা হাঁড়ি শুন এক মনে ॥ ৯০ ॥
প্রভুর বিচিত্র কার্য যেন তাঁর দেহ ।
হাটেতে ভাঙ্গিলা হাঁড়ি জানিল না কেহ ॥ ৯১ ॥
বিশাল জাহাজ যবে জলে চলে যায় ।
তিল বিন্দু সাড়া শব্দ নাহি রহে তায় ॥ ৯২ ॥
তেমতি প্রভুর খেলা হাঁকডাক নাই ।
গুপ্তবেশে মহালীলা করিলা গোসাঁই ॥ ৯৩ ॥
নববর্ষে অপরূপ রূপে পরমেশ ।
ভবনে বিরাজমান কল্পতরুবেশ ॥ ৯৪ ॥
হরিশ মুস্তফী নামে ভক্ত একজন ।
দেবেন্দ্রের মামা তিনি বঙ্গজ-ব্রাহ্মণ ॥ ৯৫ ॥
মহাভাগ্যবান হৈলা হাজির গোচরে ।
দ্বিতলে শ্রীপ্রভু যেথা দরশন তরে ॥ ৯৬ ॥
নিকটে ডাকিয়া তাঁরে করুণানিদান ।
দেবেশবাঞ্ছিত কৃপা করিলেন দান ॥ ৯৭ ॥
শ্রীপ্রভুর কৃপা কিবা কি কহিব মন ।
কৃপার গোচর মাত্র কৃপা কিবা ধন ॥ ৯৮ ॥
যে পায় কিছুই সেও বলিতে না পারে ।
কি ছিল না কি পাইল কৃপার দুয়ারে ॥ ৯৯ ॥
পরম পুলকে খালি ঝরে দু'নয়ন ।
প্রভুর কৃপার এই বাহ্যিক লক্ষণ ॥ ১০০ ॥
কৃপারূপে নিজে প্রভু লীলার ঈশ্বর ।
আপনি বিরাজমান কৃপার ভিতর ॥ ১০১ ॥
হরিষে হরিশচন্দ্র মুখে মাত্র স্ফুরে ।
কৃপায় আনন্দ কিবা হৃদয়ে না ধরে ॥ ১০২ ॥
কৃপা নহে কড়ি পাতি নহে রাজ্যধন ।
কিংবা নহে মনোহর কামিনী-কাঞ্চন ॥ ১০৩ ॥
সুস্বাস্থ ভোজন নয় নয় গাঁজা সুরা ।
নহে মাদকীয় কিছু ক্ষণানন্দধারা ॥ ১০৪ ॥
তথাপি কৃপার মধ্যে হেন বস্তু আছে ।
তুলনায় যাবতীয় রাজ্যধন মিছে ॥ ১০৫ ॥
কৃপায় আনন্দরাশি বহে শতধার ।
ধন্য সে আধার যাহে কৃপার সঞ্চার ॥ ১০৬ ॥
একজনে কৃপাবারি করি বিতরণ ।
উথলিল কৃপাসিন্ধু প্রভুর এখন ॥ ১০৭ ॥
দীন দুঃখী কানা খোঁড়া যে ছিল বাগানে ।
একে একে তা সবারে পড়ে গেল মনে ॥ ১০৮ ॥
অন্তরঙ্গ ভক্ত তাঁর দেবেন্দ্র ব্রাহ্মণ ।
দ্বিতলে ডাকিয়া তাঁয় প্রভুদেব কন ॥ ১০৯ ॥
স্থিরতর কর কথা তোমরা সকলে ।
রাম কি কারণে মোরে অবতার বলে ॥ ১১০ ॥
এ কথার অর্থ কেহ বুঝিতে নারিল ।
কথার সুগৃঢ় মর্ম কথায় রহিল ॥ ১১১ ॥
কি কব প্রভুর লীলা হৃদে রইল গাঁথা ।
পরে কি হইল শুন মধুর বারতা ॥ ১১২ ॥
গগনে যখন বেলা তৃতীয় প্রহর ।
নিম্নতলে নামিলেন কৃপার সাগর ॥ ১১৩ ॥
ভবন হইতে পরে উদ্যানের পথে ।
সেবাপর ভক্তগণ পাছু পাছু সাথে ॥ ১১৪ ॥
বাগানে ভ্রমেন প্রভু শুনিয়া বারতা ।
নিকটে জুটিল সবে যেবা ছিল যেথা ॥ ১১৫ ॥
আমরা ক-জনে ছিনু গাছের উপর ।
খেলিতেছিলাম ডালে বানর বানর ॥ ১১৬ ॥
দ্রুতপদে উপনীত হইনু সে ঠাঁই ।
সভক্তে বিহারে যেথা জগৎ-গোসাঁই ॥ ১১৭ ॥
দাঁড়াইনু একধারে প্রভুর পশ্চাতে ।
জহরিয়া চাঁপা দুটি ছিল দুই হাতে ॥ ১১৮ ॥
মহাভক্ত শ্রীগিরিশ কাছে শ্রীপ্রভুর ।
সঙ্গে তাঁর কন কথা লীলার ঠাকুর ॥ ১১৯ ॥
আজি মনোহর বেশ প্রভুর আমার ।
বারেক দেখিলে কভু নহে ভুলিবার ॥ ১২০ ॥
পরিধান লালপেড়ে সুতার বসন ।
গায়ে বনাতের জামা সবুজ বরন ॥ ১২১ ॥
সেই কাপড়ের টুপি কর্ণমূল ঢাকা ।
মোজা পায়ে চটি জুতা লতাপাতা আঁকা ॥ ১২২ ॥
শ্রীঅঙ্গের মধ্যে খোলা বদনমণ্ডল ।
কান্তিরূপে লাবণ্যেতে করে ঝলমল ॥ ১২৩ ॥
দারুণ বিয়াধি-ভোগে শীর্ণ কলেবর ।
কিন্তু বয়ানেতে কান্তি বহে নিরন্তর ॥ ১২৪ ॥
মনে হয় অঙ্গ-বাস সব দিয়া খুলি ।
নয়ন ভরিয়া দেখি রূপের পুতুলি ॥ ১২৫ ॥
হঠাৎ দাঁড়াইয়া পথে শ্রীগিরিশে কন ।
তোমরা কি দেখ মোরে কিবা লয় মন ॥ ১২৬ ॥
গিরিশ পাতিয়া জানু বসি পদমূলে ।
করজোড়ে সম্ভাষিয়া প্রভুদেবে বলে ॥ ১২৭ ॥
আমি ছার কি বলিব আপনার কথা ।
শুক ব্যাস বিবরণে পরাভব যেথা ॥ ১২৮ ॥
উত্তর গুনিয়া তবে লীলার ঈশ্বর ।
দাঁড়াইয়া সমাধিস্থ পথের উপর ॥ ১২৯ ॥
পদপ্রান্তে গিয়া মুই এমন সময়ে ।
তোলা দুটি চাঁপা ফুল দিমু দুটি পায়ে ॥ ১৩০ ॥
কিছু পরে বাহ্যচেঁঠা উদিলে শ্রীগায় ।
ভক্তগণে আশীর্বাদ করিলেন রায় ॥ ১৩১ ॥
তুলিয়া দক্ষিণ হস্ত বলিলেন তিনি ।
চৈতন্য হউক আর কি বলিব আমি ॥ ১৩২ ॥
পরে প্রভু ফিরিলেন ভবনের পথে ।
দাঁড়িয়ে আছিনু মুই অনেক তফাতে ॥ ১৩৩ ॥
দূরে থেকে সম্ভাষিয়া কি গো বলি মোরে ।
পরশিয়া হস্ত দিয়া বক্ষের উপরে ॥ ১৩৪ ॥
কানে কিবা বলিলেন আছয়ে স্মরণে ।
মহামন্ত্রবাক্য তাই রাখিনু গোপনে ॥ ১৩৫ ॥
কি দেখিনু কি শুনিনু নহে কহিবার ।
মনোরথ পূর্ণ আজি হইল আমার ॥ ১৩৬ ॥
প্রভুর মহিমা মন কি কব তোমায় ।
রামকৃষ্ণনাম গেয়ে দিন যেন যায় ॥ ১৩৭ ॥
শ্রীনবগোপালে রূপা হৈল তারপর ।
আজি কল্পতরুরূপ লীলার ঈশ্বর ॥ ১৩৮ ॥
উপেন্দ্র মজুমদারে করি পরশন ।
লোহার তাঁহার তনু করিলা কাঞ্চন ॥ ১৩৯ ॥
পরে কৃপা হইল ভ্রাতৃপুত্র রামলালে ।
পরে গিরিশের ভাই অতুল অভুলে ॥ ১৪০ ॥
এ সময়ে ভক্তবৃন্দ উন্মত্ত হইয়া ।
করে আনন্দের ধ্বনি শূন্য বিভেদিয়া ॥ ১৪১ ॥
বিশেষতঃ রামচন্দ্র ভক্ত মহাবলী ।
শ্রীচরণে দেন ফুল অঞ্জলি অঞ্জলি ॥ ১৪২ ॥
পাশেতে দণ্ডায়মান শ্রীহরমোহন ।
প্রভুর সম্মুখে রাম কৈলা আনয়ন ॥ ১৪৩ ॥
বক্ষঃ পরশিয়া তাঁর প্রভুদেব রায় ।
আজি থাক বলিয়া ছাড়িয়া দিল তাঁয় ॥ ১৪৪ ॥
এখানে গিরিশচন্দ্র উন্মত্ত অধিক ।
কে কোথা খুঁজিতে দ্রুত ছুটে চারিদিক ॥ ১৪৫ ॥
পাকশালে গিয়া দেখে রাঁধুনী ব্রাহ্মণ ।
রুটি বেলিবার তরে করে উপক্রম ॥ ১৪৬ ॥
উপাধি গাঙ্গুলী তাঁর নাম নাহি জানি ।
গিরিশ আনিতে তাঁরে করে টানাটানি ॥ ১৪৭ ॥
ভাগ্যবান শ্রীগোচরে হইল আগত ।
পাইল প্রভুর কৃপা আশার অতীত ॥ ১৪৮ ॥
রাশি রাশি কৃপা ঢালি প্রভু ভগবান ।
উপরে দ্বিতলভাগে করিলা পয়ান ॥ ১৪৯ ॥
নিম্নতলে ভক্তদের আনন্দের খেলা ।
এখানে শ্রীঅঙ্গে ওঠে নিদারুণ জ্বালা ॥ ১৫০ ॥
শ্রীঅঙ্গেতে জ্বালা কেন শুন বিবরণ ।
যে যে পাপীদের আজি করিলা মোচন ॥ ১৫১ ॥
তে সবার জীবনের যত পাপভার ।
সকল লইলা প্রভু অঙ্গে আপনার ॥ ১৫২ ॥
সন্নিকটে রামলালে কন প্রভুরায় ।
শালাদের পাপ লয়ে অঙ্গ জ্বলে যায় ॥ ১৫৩ ॥
করেছে কতই পাপ কিছু নাহি বাকি ।
দে রে এনে গঙ্গাজল সর্ব অঙ্গে মাখি ॥ ১৫৪ ॥
গঙ্গাজলে অঙ্গধানি করিলে মোক্ষণ ।
তবে না হইল পরে জ্বালা-নিবারণ ॥ ১৫৫ ॥
গলায় দারুণ ব্যাধি অন্য কিছু নয় ।
জীবের মোচনকর্মে পাপের সঞ্চয় ॥ ১৫৬ ॥
জগতের পাপরাশি লইয়া গোসাঁই ।
আপনার শ্রীঅঙ্গের মধ্যে দিলা ঠাঁই ॥ ১৫৭ ॥
করুণানিদান হেন কোথা কেবা আর ।
জপ-তপ রামকৃষ্ণপদ কর সার ॥ ১৫৮ ॥
হাজরা প্রতাপচন্দ্র এখন এখানে ।
দিবা রাত্র উপস্থিত আছেন বাগানে ॥ ১৫৯ ॥
কিন্তু যে সময়ে হেথা প্রভু ভগবান ।
দীন হীন কানা খঞ্জে কৈলা কৃপাদান ॥ ১৬০ ॥
অন্যত্রে তখন তেহ গিয়াছে চলিয়া ।
অবিরত বিশ্রামের উদ্যান ছাড়িয়া ॥ ১৬১ ॥
যেমন ঘটনা সাঙ্গ আইল হেথায় ।
শুনিয়া দিনের রঙ্গ করে হায় হায় ॥ ১৬২ ॥
হাজরা তপস্বী এক পিরীত-সাধনে ।
বড়ই সম্ভাব তাঁর নরেন্দ্রের সনে ॥ ১৬৩ ॥
সেইহেতু প্রভুদেবে শ্রীনরেন্দ্র কন ।
হাজরারে করিবারে কৃপাবিতরণ ॥ ১৬৪ ॥
উত্তরে কহিলা রায় এবে নাহি হবে ।
সময়সাপেক্ষ কাজ শেষেতে পাইবে ॥ ১৬৫ ॥
এইমতে মাসাধিক হইল যাপন ।
পুনশ্চ পূর্বের চেয়ে ব্যাধির বিক্রম ॥ ১৬৬ ॥
কিছু দিন ছিল রোগ সাম্য-অবস্থায় ।
এবে সুদে মূলে কর করিল আদায় ॥ ১৬৭ ॥
সবার ভরসা আশা এইবারে দূর ।
হৃদয়ে উদয় হইল যাতনা প্রচুর ॥ ১৬৮ ॥
বৈজ্ঞানিক চিকিৎসক মহেন্দ্র ডাক্তার ।
বিফল-প্রয়াস জ্ঞানে হতাশ এবার ॥ ১৬৯ ॥
ক্ষুণ্ণ মনে ক্ষুণ্ণ প্রাণে ভক্তগণে কন ।
করিলাম যথাসাধ্য অসাধ্য এখন ॥ ১৭০ ॥
যতক্ষণ শ্বাস আশা ততক্ষণ প্রাণে ।
যুক্তি করি পরস্পর অন্যজনে আনে ॥ ১৭১ ॥
বহুবাজারেতে ঘর সুবিজ্ঞ ডাক্তার ।
উপাধিতে দত্ত, নাম রাজেন্দ্র তাঁহার ॥ ১৭২ ॥
ব্যাধিবিৎ কবিরাজ ডাক্তার প্রভৃতি ।
আশে পাশে চারিদিকে শহরে বসতি ॥ ১৭৩ ॥
কতই আসিল তার সংখ্যা নাহি হয় ।
করিতে নারিল কেহ রোগের নির্ণয় ॥ ১৭৪ ॥
যেমন শ্রীপ্রভুদেব শাস্ত্রাদির পারে ।
তেমতি নিদানাতীত বিয়াধি শরীরে ॥ ১৭৫ ॥
রাজেন্দ্র করিল বটে আরম্ভ চিকিৎসা ।
মনে জানে আরোগ্যের নাহি কোন আশা ॥ ১৭৬ ॥
গলার ভিতরে ছিল বাসা বিয়াধির ।
এখন বহিরভাগে হইল বাহির ॥ ১৭৭ ॥
প্রভুর দারুণ ব্যাধি দারুণ যন্ত্রণা ।
তথাপি তাঁহার নাই তিলেক ভাবনা ॥ ১৭৮ ॥
হাস্যাননে সঙ্গ কষ্ট নহে বিমরষ ।
দেহেতে অসুখভোগ মনেতে হরষ ॥ ১৭৯ ॥
রঙ্গের বিরাম নাই চলে অবিরল ।
শুন রামকৃষ্ণকথা শ্রবণমঙ্গল ॥ ১৮০ ॥
প্রত্যক্ষে কি অন্তরীক্ষে প্রভু ভগবান ।
সতত ভক্তের সঙ্গে বেড়িয়া বেড়ান ॥ ১৮১ ॥
প্রত্যক্ষ আগোটা লীলা রামকৃষ্ণায়ন ।
অন্তরীক্ষে কিবা খেলা করহ শ্রবণ ॥ ১৮২ ॥
অনেক ফলের বৃক্ষ উদ্যানভিতরে ।
উদ্যান-স্বামীর সব আছে অধিকারে ॥ ১৮৩ ॥
প্রত্যেক ফলের গাছ বাগানে অনেক ।
কিন্তু খেজুরের গাছ খালি মাত্র এক ॥ ১৮৪ ॥
সেই গাছে এ সময়ে দিয়েছিল তাড়ি ।
বিকালে ঝুলায়ে দিত মেথিদেশে হাঁড়ি ॥ ১৮৫ ॥
গোটা রাতি জমে রস হাঁড়ির ভিতরে ।
নামাইয়া লয় মালি খুব ভোরে ভোরে ॥ ১৮৬ ॥
জিরান-কাটের রস তৃপ্তি রসনায় ।
বড়ই সুমিষ্ট তার বড়ই সুতার ॥ ১৮৭ ॥
নিরঞ্জন একদিন সঙ্গীদের সনে ।
পরামর্শ করিলেন গোপনে গোপনে ॥ ১৮৮ ॥
নিশীথ অতীতে হাঁড়ি লইবে পাড়িয়া ।
পান করিবে রস সকলে মিলিয়া ॥ ১৮৯ ॥
রাত্রিকালে সবে মিলি যান একত্তরে ।
গাছের নিকটে রস চুরি করিবারে ॥ ১৯০ ॥
নিজের মহলে হেথা মাতাঠাকুরানী ।
জাগিয়া থাকেন প্রায় আগোটা যামিনী ॥ ১৯১ ॥
যোগাইতে দ্রব্যচয় সময়ের আগে ।
প্রভুর সেবার হেতু কখন কি লাগে ॥ ১৯২ ॥
দেখিতে পাইলা মাতা জগৎজননী ।
নিরঞ্জনাদির সঙ্গে শ্রীপ্রভু আপনি ॥ ১৯৩ ॥
শরীরে দারুণ ব্যাধি নাহি কোন ডর ।
বেড়িয়া বেড়ান গোটা উদ্যান-ভিতর ॥ ১৯৪ ॥
কিন্তু প্রভুদেব হেথা নিজের শয্যায় ।
অন্য ভক্তদ্বয় কাছে হাজির সেবায় ॥ ১৯৫ ॥
এখানেতে নিরঞ্জন সঙ্গীদের সনে ।
আগোটা বাগান ঘোরে বৃক্ষ অন্বেষণে ॥ ১৯৬ ॥
সেই সে বাগান যার প্রতি ঠাঁই জানা ।
খেজুর গাছের আজি না পান ঠিকানা ॥ ১৯৭ ॥
ঘুরিয়া ঘুরিয়া সবে ক্লান্ত-কলেবর ।
পশ্চাতে বুঝিল ইহা প্রভুর রগড় ॥ ১৯৮ ॥
পীড়াতেও নাহি ক্ষান্ত রঙ্গ অবিরাম ।
গুন রামকৃষ্ণলীলা প্রাণের আরাম ॥ ১৯৯ ॥
কাল-পাগলিনী যিনি বারনারী জেতে ।
প্রভুকে ভঙ্গিতে চায় মধুর ভাবেতে ॥ ২০০ ॥
এবে তেঁহ উন্মাদিনী প্রভুর লাগিয়া ।
উদ্যানের মধ্যে আসে ছুটিয়া ছুটিয়া ॥ ২০১ ॥
আশা মনে একমাত্র প্রভুদরশন ।
তাড়া করে লাঠি হাতে নিত্যনিরঞ্জন ॥ ২০২ ॥
চরণ ছাঁদিয়া তাঁর কাল-পাগলিনী ।
কাকুতি মিনতি করে লুটায়ে অবনী ॥ ২০৩ ॥
কোনমতে নিরঞ্জন নাহি দেন যেতে ।
বরঞ্চ প্রহার করে ধরিয়া ঝুটিতে ॥ ২০৪ ॥
কোম্পানির পথে দিলা করিয়া বাহির ।
দাঁড়াইয়া রহে বহে দুনয়নে নীর ॥ ২০৫ ॥
মরি কিবা অনুরাগ প্রভুর চরণে ।
এ জনার পদরেণু ভিক্ষা করে দীনে ॥ ২০৬ ॥
তখন অবজ্ঞা-ভাব করিয়া তাহারে ।
জনমের মত খেদ রাখিনু অন্তরে ॥ ২০৭ ॥
যে হোক সে হোক যার প্রভুপদে মতি ।
সার্থক জীবন তাঁর চরণে প্রণতি ॥ ২০৮ ॥
হোক বেশ্যা বারাঙ্গনা হীন হেয়াচার ।
রামকৃষ্ণ-ভক্তি যেথা আরাধ্য আমার ॥ ২০৯ ॥
ভক্তের ভজনা কর ভক্তি মাত্র ধন ।
ভজ ভক্ত পূজ ভক্ত ভক্তির কারণ ॥ ২১০ ॥
ভক্ত
মাত্রে এক জাতি সামাজিকে নানা ।
সুবর্ণ অধম অঙ্গে তবু তাহা সোনা ॥ ২১১ ॥
ভক্তির আধার পাত্র প্রভুর আলয় ।
শ্রদ্ধেয় প্রপূজনীয় যেখানে না রয় ॥ ২১২ ॥
রমণী নামক বেশ্যা দক্ষিণশহরে ।
বাৎসল্যের চক্ষে দেখে প্রভু গুণধরে ॥ ২১৩ ॥
মা বলিয়া তাহারে সন্তাষে প্রভুবর ।
ব্রাতা পাতা জগতের অখিল-ঈশ্বর ॥ ২১৪ ॥
কি বড় ভাগ্যের কথা বুঝে দেখ মন ।
বিশ্বে ভাগ্যবতী হেন আছে কয়জন ॥ ২১৫ ॥
চাউল-কলাই-ভাজা লুকায়ে বসনে ।
রমণী প্রভুর হাতে দিত সযতনে ॥ ২১৬ ॥
ফুল্লমনে পদ্মাননে হাস্যসহকার ।
সাদরে গ্রহণ প্রভু কৈলা কতবার ॥ ২১৭ ॥
কার সঙ্গে রমণীর তুল্য ত্রিভুবনে ।
চরণের রেণু আশ করে এ অধমে ॥ ২১৮ ॥
রামকৃষ্ণ-লীলা-গীতি অমৃত-ভাণ্ডার ।
শ্রবণ-কীর্তনে ভব-জলধিতে পার ॥ ২১৯ ॥
সংসারের সুখ দুঃখে পেতে দিয়া ছাতি ।
একমনে শুন মন রামকৃষ্ণ-পুঁথি ॥ ২২০ ॥