দ্বিতীয় খণ্ড

রাসমণি কর্তৃক পরীক্ষা


জয় রামকৃষ্ণ নাম     অহেতুকী রূপাধাম
        প্রাণারাম পরাশান্তিদাতা ।
অপার করুণাসিন্ধু       দুর্বল দীনের বন্ধু
        পতিতপাবন ত্রাতা পাতা ॥ ১ ॥

জয় জগৎজননী        কৃপাময়ী নিস্তারিণী
        ব্রাহ্মণ-নন্দিনী গুরুদারা ।
জয় ইষ্ট-গোষ্ঠিগণ        শ্রীপ্রভুর প্রাণধন
        অধমের করহ কিনারা ॥ ২ ॥

না চাই সিদ্ধাই বল      সপ্তদীপ ধরাতল
        প্রতিপত্তি সম্পত্তি ধরায় ।
কর মোরে শক্তিদান  গাব প্রভু-লীলাগান
        শুনে যেন মন ভুলে যায় ॥ ৩ ॥

শুন শুন ওরে মন        মহাতম বিনাশন
        পরীক্ষা কখন অতি মিঠে ।
ভক্তবাঞ্ছাকল্পতরু       শ্রীপ্রভু জগৎগুরু
        যাহা দিলা ভক্তের নিকটে ॥ ৪ ॥

বারে বারে শ্রীপ্রভুর    পরীক্ষা কৈল মথুর
        রাসমণি শাশুড়ী এবারে ।
আনিয়া রূপসী দুটি    সাজাইল পরিপাটি
        নানাবিধ স্বর্ণ-অলঙ্কারে ॥ ৫ ॥

মুনি-মন মুগ্ধ করে  বারেক আঁখিতে হেরে
        পরমা সুন্দরী দুই জন ।
রানীর সুযুক্তি মতে ধীরে ধীরে চলে রেতে
        টলাইতে শ্রীপ্রভুর মন ॥ ৬ ॥

এখানে পরীক্ষা তরে  শ্রীপ্রভুর শয়নাগারে
        নিজভাবে পতিত শয্যায় ।
কামিনী কুটিলমতি  মোহনীয়া জাল পাতি
        হাবভাবে নিকটে দাঁড়ায় ॥ ৭ ॥

রঙ্গ কার কথা কয়      রঙ্গিণী মোহিনীদ্বয়
        নাহি ভয় পাষাণ-অন্তরে ।
ক্রমে অগ্রসর হৈয়া    শ্রীঅঙ্গ পরশে গিয়া
        শ্রীপ্রভুর শয্যার উপরে ॥ ৮ ॥

অল্পবয়ঃ শিশুপ্রায়    দেখিয়া বিকট কায়
        শ্যামায় ডাকেন মহাত্রাসে ।
বাহ্যহারা অচেতন        প্রভুদেব নারায়ণ
        কামিনীর কলুষ পরশে ॥ ৯ ॥

প্রভু-অঙ্গ-পরশনে        বারনারী দুইজনে
        শুন কি হৈল অতঃপরে ।
জনম-জনমার্জিত   পাপে তাপে বিনির্মূক্ত
        দিব্যভাব উদয় অন্তরে ॥ ১০ ॥

অভয় চরণ ধরি    ঢালে দু'হে আঁখি-বারি
        অনিবার বসি পদতলে ।
হ'য়ে মহা কৃপাবান       উঠিলেন ভগবান
        শ্রীবন্ধনে শ্যামা শ্যামা ব'লে ॥ ১১ ॥

দু'হে নমস্কার করি       ত্রিতাপসন্তাপহারী
        প্রভুদেব কল্যাণবিধান ।
ভয়ে জড়সড় কায়       বারনারী দুজনায়
        করিলেন অভয় প্রধান ॥ ১২ ॥

প্রভুর নাহিক রোষ   রূপে গুণে আশুতোষ
        শত দোষ করিলে চরণে ।
তখন মার্জনা তাঁর        দয়াময় অবতার
        আগুসার ভূভার-হরণে ॥ ১৩ ॥

জীবের দেখিয়া দুখ     সদা বিদরিত বুক
        অস্থির মরম-বেদনায় ।
জ্বালায় যেতেন ছুটে    নির্জন গঙ্গার তটে
        অন্ধকার বটের তলায় ॥ ১৪ ॥

শিবাগণ থেকে থেকে  যখন প্রহরে ডাকে
        সেই সঙ্গে প্রভু নারায়ণ ।
সম্বোধিয়া শ্যামা মায়  প্রাণাকুল যাতনায়
        করিতেন অশ্রু বিসর্জন ॥ ১৫ ॥

বলিতেন শ্যামা তুমি   জীবের জনম-ভূমি
        জগৎজননী তব নাম ।
পাপে রত জীব প্রতি    কৃপা কর কৃপাবতী
        কৃপা বিনা কি আছে কল্যাণ ॥ ১৬ ॥

হিতব্রত নিরবধি         অহেতুক কৃপানিধি
        বিধির বিধান ছাড়া দয়া ।
আত্মসুখ-বিবর্জিত        সাধন-ভজনে রত
        জীবহেতু মাত্র নর-কায়া ॥ ১৭ ॥

মজ মন মনসাধে         এমন প্রভুর পদে
        হৃদয় রতন কমলার ।
ভজ পূজ সেব তাঁয়    লুকায়ে রাখি হিয়ায়
        ফলাফল না করি বিচার ॥ ১৮ ॥